ঈদের নামাজ পড়তে হবে, আর নতুন পাঞ্জাবি থাকবে না সেটা কি হয়। ইতোমধ্যেই যারা ঈদের পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল কিনেছেন তারা এখন পাঞ্জাবির দোকানে ভিড় করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন এখন ভালোই পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে।
আজ ২২ রমজান। ঈদের বাকী আছে আর মাত্র ৮ দিন (৩০ রোজা সাপেক্ষে)। সময় যত ঘনিয়ে আসছে খুলনা নগরীর বিপণি বিতানগুলোতে বাড়ছে কেনা-বেচার ব্যস্ততা। শোরুমগুলোতে সাজানো হয়েছে দেশি ও বিদেশি কাপড়ের তৈরি বাহারি পাঞ্জাবি।
ফুটপাত থেকে শোরুম ঘুরে দেখছেন ক্রেতারা। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা। তবে ঈদের বাকী দিনগুলিতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
গতকাল বুধবার নগরীর ডাকবাংলো মোড়, রেলওয়ে বিপণি বিতান মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে তরুণদের পাশাপাশি মধ্য বয়সি ও প্রবীণ ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজছেন তারা। আবার কেউ দামাদামি করে পাঞ্জাবিও কিনছেন। ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই সাজিয়ে রেখেছেন তাদের পছন্দের পাঞ্জাবি। বিভিন্ন ব্যান্ড ও দেশি-বিদেশি কাপড়ের তৈরি বাহারি পাঞ্জাবিতে ভরে উঠেছে দোকানগুলো।
মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায় এবারের ঈদে ক্রেতাদের জাফরণ, সুতি, কর্টন পপবান ও চেরি কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবি ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে। বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
রেলওয়ে মার্কেটের কেআই ফ্যাশনের বিক্রেতা আফরোজ বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকে এবার বিক্রি বেশ ভালো। এ মার্কেটে নি¤œ থেকে হাই প্রোফাইলের ক্রেতারা আসেন। তরুণ, মধ্যবয়সি ও প্রবীণরা পাঞ্জাবির জন্য আসছেন। অনেকেই এ ঈদে শার্ট ও প্যান্টের অদলে পাঞ্জাবি এবং পায়জামা ক্রয় করছেন। তার দোকানে জাফরন, সুতি, কর্টন ও চেরি কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবি কিনছেন ক্রেতারা।’
একটু সামনে এগিয়ে দেখা যায় পাঞ্জাবি ঘর। এখানে শুধুুমাত্র পাঞ্জাবিই বিক্রি করা হয়। এখানে তারা পাকিস্তানি কাপড়ের তৈরি লক্সারি পাঞ্জাবি, কাবুলি, পাকিস্তানি চেরি, লইসা, জাফরণ ও চায়না কাপড়ের তৈরি ভাংচুর বিক্রি হচ্ছে বশি।
দোকান মালিক হুজাইফা জানান, ‘লক্সারি পাঞ্জাবির মূল্য ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাবুলি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি লক্সারি পাঞ্জাবির। সব বয়সের ক্রেতারা আসছেন তার দোকানে। গতবারের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম বেশি। সেকারণে পাঞ্জাবির দামও বেশি।’
এছাড়া ওই মার্কেটের মাহি ফ্যাশন, শুভ ফ্যাশন ও ইউনিক পাঞ্জাবির দোকানে প্রচ- ভিড় দেখা যায়। পাঞ্জাবি-পাজামা বিক্রি করে তারা সন্তোস প্রকাশ করেছেন।
খুলনার নিরালার বাসিন্দা আম্মার শেখ পাঞ্জাবি কিনতে নিক্সন মার্কেটে এসেছিল দাদির সাথে। ঈদে শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি বাড়তি পাঞ্জাবি প্রয়োজন তার। পাকিস্তানি কাপড়ের তৈরি লক্সারি পাঞ্জাবি কিনে খুশি সে।
কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী এস, এম মাহবুবুর রহমানের সাথে। তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাবুলি পাঞ্জাবি। রেডিমেট সেট তার পছন্দের তালিকায় না থাকায় ছুটে আসেন আক্তার চেম্বারের কাপড়ে দোকানে। সেখানে পছন্দের কাপড় ক্রয় করে দর্জির কাছে বানাতে দেন তিনি।
ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান বলেন, ‘তিনি একটি এতিমখানায় দান করার জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন। বাজেটের মধ্যে থাকলে তিনি ৫০০ পাঞ্জাবি কিনবেন।’
এদিকে ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়ছে। প্রতিটি মার্কেটের সামনে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই আছে। মার্কেটের সামনের সড়কে প্রচ- যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

